April 19, 2026, 2:34 pm

সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টার থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

স্বামী মামুন মিল্লাতের সঙ্গে নিহত নুসরাত। ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টার থেকে নুসরাত জাহান (২৮) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১২ জুন) বিকেলে বি-২ নম্বর কোয়ার্টারের বাসার দরজা ভেঙে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে এ ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী মামুন মিল্লাত পলাতক রয়েছেন। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে মিল্লাত ও নুসরাত সংসদ সচিবালয়ের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে প্রতিবেশীদের ফোন পেয়ে বাসার দরজা ভেঙে নুসরাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নুসরাতের স্বামী মামুন মিল্লাত পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ওই কোয়ার্টার সাবলেটে ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে মামুন মিল্লাত পুলিশের কেউ নন, তিনি প্রতারক। মামুন মিল্লাতের প্ররোচনায় নুসরাত আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর মেয়ে নুসরাত পলাতক মামুন মিল্লাতকে বিয়ের পর ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হন। তার বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলায়। সেখানে তিনি জেলা ছাত্রলীগের নেত্রী ছিলেন। নুসরাত ২০১৯ সালে মামুন মিল্লাত নামে ওই যুবককে বিয়ে করেন। ওই সময় মামুন নিজেকে ৩৮তম বিসিএসের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েছিলেন।

প্রতিবেশীরা বলছেন, নুসরাত ও তার স্বামীর মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। শনিবার সকালেও তারা নুসরাত ও তার স্বামীর ঝগড়া শুনেছেন। তারা প্রায় দিনই তা করতেন। গত তিন মাস ধরে ওই দুইজন সাবলেট ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মুন্সী বলেন, নিহত নারীর বাড়ি চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলায়। তার স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। উনারা ঢাকায় আসার জন্য রওনা দিয়েছেন। তারা ঢাকায় আসলে নিহত নারীর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

তিনি বলেন, নারীর মরদেহ আমরা বাসাটিতে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় পাই। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখনও মামলা হয়নি। তবে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাকে আটকের চেষ্টা করছে পুলিশ।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা